ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​দুদকের কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১১-০৯-২০২৬ ০৬:০৫:৪২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-০৯-২০২৬ ০৬:০৫:৪২ অপরাহ্ন
​দুদকের কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ ​ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি এই নোটিশ পাঠান।

আইনি নোটিশে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণ সমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

পোস্টে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্তি অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ওই বক্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

আসিফ মাহমুদের দাবি, কোনো তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার দেওয়া বক্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে— এমন ধারণা জনমনে তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।

পরে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তার বক্তব্যটি ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল বলে জানান। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের সময় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়। ফলে ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া মিডিয়া ট্রায়াল ও জনমনে নেতিবাচক ধারণা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ।

আইনি নোটিশে অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসংগতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।

এ ছাড়া, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০ ডিসেম্বর ২০২৫। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে ১১ মে ২০২৬। অর্থাৎ, তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর ওই পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

এ অবস্থায় আইনি নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে গণমাধ্যমে দেওয়া তার বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যথাযথভাবে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ